গাছকৌটো – স্বাগতা দাশগুপ্ত

দুধে-আলতা ছাড়াই আমি পা রেখেছি আপনার সংসারে । ব্যাঙ ডেকেছে চারপাশে । ঝিঁঝিঁরাও দিয়েছে সেইমতো সঙ্গ । আমার দুই বুকে মিশে ছিল বিষণ্ণ জন্মদাতা – যে কিনা আপনারই কোনও এক জন্মের রাধিকা । কয়েকটা জন্ম আমি শ্মশানে ঘুরেছিলাম । আমার নাভির সাথে জুড়ে ছিল এক উন্মত্ত পিশাচিনী । প্রতি রাত্তিরে সে যখন নাচতে নামত টান […]

অতোটা হৃদয় প্রয়োজন নেই – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

অতোটা হৃদয় প্রয়োজন নেই, কিছুটা শরীর কিছুটা মাংস মাধবীও চাই। এতোটা গ্রহণ এতো প্রশংসা প্রয়োজন নেই কিছুটা আঘাত অবহেলা চাই প্রত্যাখান। সাহস আমাকে প্ররোচনা দেয় জীবন কিছুটা যাতনা শেখায়, ক্ষুধা ও খরার এই অবেলায় অতোটা ফুলের প্রয়োজন নেই। – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

টিউশন যাত্রা – রাজলক্ষী বাসু

#১ টিউশন বস্তুটা আমার সাথে লেপ্টে গেল আমার ক্লাস সিক্স থেকে। আমার বেশির ভাগ সহযোদ্ধাদের থেকে কিছুটা দেরিতেই। কিন্তু আমার বাবা কিঞ্চিৎ সেকেলে বলে টিউশন এড়াচ্ছিল। বোধহয় নিজের একখানি তিক্ত অভিজ্ঞতাও একটা কারণ। কিন্তু একবিংশ শতাব্দিতে পা গলিয়ে মাধ্যমিকের গুরুত্বকে অস্বীকার করে, বোর্ড-সিলেবাসীয় প্যানিক উপেক্ষা করে সন্তান মানুষ করবে, এই ধক মানুষের ছিল না। আমার […]

সেদিন – রাজলক্ষী বাসু

আমি তখন সবে মাধ্যমিক দিয়েছি। টিপিকাল বাঙালির মত আমারও ওই তিন মাস বিবিধ টিউশনে দৌরাত্ম্যি করেই কাটছে। আমার বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যা ভয়ানক সীমিত। তার ওপর তারা কেউ আশেপাশে থাকেও না। মেয়েদের স্কুলে পড়তাম বলে তারাও সবাই মেয়ে। তার মধ্যে আমি একটু বেশি ঘরকুনো। সব মিলিয়ে ঘরে-বাইরে ইমেজটা এক্কেবারে নিরীহ গোবেচারা। এমনিতে বাবা-মা-ভাইয়ের ওপর দিব্যি দাপট চলে […]

লাঠির মুখে গানের সুর – রুপসা রায়

রুপসা রায় লিখছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে। স্মৃতিমেদুরতার সাথে মিশেছে শাণিত লেখনী।

কি কি ফেলে দিতে হবে – অর্ক ভাদুরি

কি কি ফেলে দিতে হবে তাহলে? ওষুধগুলো। হেরে যাওয়া ওষুধের দল। খামের পর খাম! ওষুধ ওষুধ আর ওষুধ! এত্তো ওষুধ খেতে দেখিনি তো কখনও! চটিজোড়া ফেলে দিতে হবে। ধুলো জমছে। অকারণে নোংরা হচ্ছে ঘর। নোংরা তো আবার পোষাতো না! যত্তসব! পিটপিটে। কি আজব দাবি! চটি ছাড়া না কি হাঁটাই যাবে না ঘরে! বয়ে গিয়েছে মানতে! […]

গঙ্গাসাগর – অর্ক ভাদুরি

গঙ্গাসাগর। লক্ষ লক্ষ মানুষ। হা-ঘরে, চাষাভূষো, দেহাতী, হতদরিদ্র। পূণ্য করতে এসেছেন। হোগলা পাতার ঘরে থাকা। অনেকের তাও জোটেনি। খোলা আকাশের নিচে। সারারাত। হিম। হাওয়া। রাত আড়াইটে থেকে স্নান শুরু। কাতারে কাতারে মানুষ। কপিল মুনির আশ্রমের ছাদ থেকে তাকালে মনে হয়, জনসমুদ্র। পাগলের মতো ছুটছেন। পুজো দেবেন। পূণ্য চাই। ব্যারিকেডের পর ব্যারিকেড। তাও সামলানো যাচ্ছে না […]

মৃদুল দাশগুপ্তের কবিতা

ধরো একদিন গেরিলা বাহিনী গড়ে লুন্ঠনে যাবো প্রাসাদ বাগিচা শ্রেষ্ঠীর গুলি বন্দুক খুইয়ে যখন সম্বল শুধু শেষ তীর ধোঁয়ার ভেতরে দেখা হয়ে যাবে সজল করুণ মুখটি স্তম্ভিত তুমি, ক্রমে বিহ্বলা, দ্বিধাতুর তবু প্রস্তুত ধরা পড়ে যাব এই কারণেই, ফাঁসি হয়ে যাবে ভোরে গাছে গাছে শুধু সেদিন ঝুলবে নয়া সামরিক চুক্তি তুমিও মরবে, আমাদের কথা ভুলে […]

‘জলপাই কাঠের এসরাজ’ থেকে – মৃদুল দাশগুপ্তের কবিতা

ধরো, ধরো, সেদিনও এমনই রাত, এই ঋতুবদলের মাস, এই সেপ্টেম্বর, ধরো, সেদিনও এমনভাবে নিদ্রাহীন বসে থাকা, কৃষ্ণপক্ষ, আর হঠাৎ এমনই রাতে অরোরা জাহাজে সেই তোপের গুমগুম শব্দ রাত্রির সমুদ্র চিরে শোনা গেল গড়বাসুদেবপুর গ্রামে, টাঙ্গি হাতে ছুটে গেল কার্তিক কাহার কে যেন চেঁচিয়ে ডাকল কাকে, হরিদাস মুর্মু দিল চোষক পোকার গুচ্ছে চরম ডি-ডি-টি; শুরু হল […]

নির্বাসন (অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত-র কবিতা)

আমি যত গ্রাম দেখি মনে হয় মায়ের শৈশব। আমি যত গ্রামে যত মুক্তক পাহাড়শ্রেণী দেখি মনে হয় প্রিয়ার শৈশব। পাহাড়ের হৃদয়ে যতো নীলচে হলুদ ঝর্ণা দেখি মনে হয় দেশগাঁয়ে ছিল কিন্তু ছেড়ে আসা প্রতিটি মানুষ। ঝর্ণার পাশেই নদী, নদীর শিয়রে বাঁশের সাঁকোর অভিমান যেই দেখি, মনে হয় নোয়াখালী, শীর্ণ সেতু, আর সে-নাছোড় ভগবান