বন্ধক

এমন ভাবে চলে যাচ্ছে দিন, ছুঁতে গেলে ছ্যাঁকা লেগে যায়অর্জুনের শরসন্ধানে, একাগ্র তার অহং তপোময়। ফিরে দেখছি মুহুর্তের মত, কি যেন সব লেগে থাকছে পথে, অবিরত ধুলার মত তার, মৃত্যু হয়। হয়েও হয় না। এক মুঠো জুঁই ফুলের কাছে, আমার সব জাহাজ বাঁধা আছে, সমস্ত দিনই সফল হয়,শুধু তার গন্ধ মেটে না।

একজন আনন্দময় মানুষের খোঁজে

একজন আনন্দময় মানুষের খোঁজে সারা দিন কেটে গেল, দু লহমা বসিনি। পাশের বাড়ি থেকে কেউ ডাকছিলো। শুনিনি। কপালে ঘাম জমছিলো। মুছে নিলাম। চেয়ারে বসেছিলো জমকালো কত জন, একজন আনন্দময় মানুষের খোঁজে তারাও যাবে।

ঝড়মহল

ঝড়মহলে ছিলাম তাই মহলা দিই নি, মেঘের খবর আমার সেই বুকপকেটে রাখা, কবিতা নিয়ে কখনো কোনো কষ্ট পাইনি, এটুকু আর হত্যে দিয়ে জেতার মত নয়। হিন্দু স্কুলের দেয়ালে ওই মেঘ ঘনিয়ে এলো, কালো কফির ফোঁটায় ফোঁটায় তুমুল শরৎকাল, আমার কিছু অন্তমিল কুলুঙ্গিতে ছিলো, আর কিছুটা ছড়া কাটার শব্দ যন্ত্রণার। মেঘের মত আমিও তাই ছিন্ন। ঘনায়মান।Continue reading “ঝড়মহল”

ঠিক মত আকাশ থাকলে

ঠিক মত আকাশ থাকলে তুমি থেকে যেতে, নদীর মত থই থাকলেও, হয়ত দাঁড়াতে, তারপর অরণ্যের মত গহন হয়ে কাছে বসতাম, তুমি বনান্তের মত কঠোর হতে, ভালোবাসতে।

ঘর বাড়ি

কতবার ‘আমি’ বললে আজ?উঠোনে তবু জুঁইএর গন্ধ আছে,উবু হয়ে শুধু বেছে নাও ঘর বাড়ি,এখনও তুমি সজল যে হয় তারই!আকাশে হয়ত গোধূলির আনাগোনা। কনকচাঁপার নাম শুনেছিলে তুমি,পুড়ে খাক হোক সমস্ত বনভূমি,তবু তো তুমি নদীর প্রান্তে গেলে,মুহুর্তে তুমি এমন স্বচ্ছ হলে,জ্যোৎস্নার মত শিহরিত মেঘমাঠ!

স্নেহলতা

এই যে আঙুলের আগায়,তিরতির করে কাঁপছে সময়।নৌকায় বসে আছো তুমি।তোমার রোগ।আর অজস্র সুসময়।তারপরই লণ্ডভণ্ড দেহ,পারিজাতের মত সুপ্রতিম।তীরের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা স্নেহ,হিজল নদীর মতই আরক্তিম।

শুক্তি

রুদ্ধতার, মুগ্ধতার, শুদ্ধতার জন্য আমি শুক্তি হলাম আজ। বুকের মধ্যে মুক্তা মাণিক, যতেক কারুকাজ। তাদের জন্যে হন্যে হলাম আমি, তারপরে দ্বিপ্রহরে কোটরে এসে থামি।

বিভ্রমে

জানো তো রিদয় বিদ্ধ হলে, শহরের বুকে শিউলি পাতা ঝরে। অরণ্য অসীম আমি জানি। পায়ে পায়ে হেঁটে গেছি জানুমধ্য তীর। অকুণ্ঠ খেলার জন্য অবিন্যস্ত চুল তার, উত্তরায়ণে স্থির। আমি তবু হেঁটে গেছি, বিভ্রমে বিভ্রমে, বক্ষমধ্যে ছিন্ন আমার স্যমন্তক মণি, অরণ্য অসীম আমি জানি।