দাবী করলে কবিতা

দাবী করলে কবিতা,পলাশ ফুটল যেন,কুহেলি জড়ানো বিজন শহরে,জলোচ্ছাসের হেন! আমরা দুটো চাতক পাখি,প্রাণের আরাম বাজিই রাখি,পথের মধ্যে রাস্তা আঁকি,কি আর করা যাবে,ঠোঁটে পলাশ রাখব সখি,শহর প্রাচীন হবে। প্রাচীন বটের মত দুটোয়,জড়িয়ে যাব আরো,কথার মধ্যে কথার পাহাড়,মুক্তি হবে তারও! (ছবিঃ অনিল কুমার)

শুক্তি

রুদ্ধতার, মুগ্ধতার, শুদ্ধতার জন্য আমি শুক্তি হলাম আজ। বুকের মধ্যে মুক্তা মাণিক, যতেক কারুকাজ। তাদের জন্যে হন্যে হলাম আমি, তারপরে দ্বিপ্রহরে কোটরে এসে থামি।

বিভ্রমে

জানো তো রিদয় বিদ্ধ হলে, শহরের বুকে শিউলি পাতা ঝরে। অরণ্য অসীম আমি জানি। পায়ে পায়ে হেঁটে গেছি জানুমধ্য তীর। অকুণ্ঠ খেলার জন্য অবিন্যস্ত চুল তার, উত্তরায়ণে স্থির। আমি তবু হেঁটে গেছি, বিভ্রমে বিভ্রমে, বক্ষমধ্যে ছিন্ন আমার স্যমন্তক মণি, অরণ্য অসীম আমি জানি।

মন্থন

তুষারাবৃত ছিল সুসময়। তারপরে, মধ্যান্তরে, বলেছি এখনই নয়। আর কিছুটা মোহগ্রস্থ বিকার যাপন হোক, মন্বন্তরে স্থানু হয়ে থাক আজন্ম সম্ভোগ। আর কিছুটা নিঙড়ানো থাক পৌষ ভোরের রঙ। পরাগে পরাগে স্তব্ধ থাকুক সমুদ্র মন্থন।

দেখেছি তোমার রক্তস্নাত দেহ

দেখেছি তোমার রক্তস্নাত দেহ, ক্লান্তি ঢালা আলোর বর্ণে কি বিপুল সমারোহ। তার ও পরে দেখেছি তোমার সোজা হেঁটে চলে যাওয়া, অনেক কালের অভিমান, চাওয়া পাওয়া। রিদয় ধর্মী যা কিছু আছে, বাজি রেখে গেলে তুমি, অজানিত প্রেম, বালুচর ঘ্রাণ, তৃষিত জন্মভূমি। রেখে গেলে তুমি তরুণ জীবন, সুমন্দ্র সুবাতাস, তোমারই পায়ের পাতায় পাতায় সেদিন জলোচ্ছাস।

আমি কি তোমায় চিনি?

আমি কি তোমায় চিনি? অযত্নকাল হয়ত হয়েছে দামি। ফিরে আসা হবে এইটুকু সম্ভবে। তোমারই মত সহস্র মুখ সহস্র হাত, সহস্র সুখ, বেঁচে থাকার এই বীভৎস বৈভবে।

চে

কার মৃত্যু আমায় অপরাধী করে দেয়? শুকনো হয়ে আসা ঠোঁটে কে আঙুল বুলায়? উপত্যকায় মৃত্যু নেমে এলে কবে আমিও দাঁড়াই,  কোন জঙ্গলে, মাইনে, ময়দানে, আমিও থমকাই। শিরদাঁড়া ভর দিয়ে (যতটা আছে বাকি), কার জন্যে আমিও আজও প্রণয় মিছিলে রাখি? কিছুটা পৃথক হয়ে সীমন্তেতে লাল, সাতটি রঙের ঘোড়ায় রেখেছি কাদের কঙ্কাল?

সুসময়

সেও তো পারত কিছু। পারা না পারার অন্তর্ঘাত আবার নিচ্ছে পিছু। সামনে এখন বিনম্র দিন, মগজে এখন ক্ষয় সীমাহীন, চোখ বুজলেই অচেতন হই, এমনই সুসময়, কে যেন তবুও পেছন আঁকড়ে বলছে এখনই নয়। ভেবে নিতে পারো ফেরার হয়েছি, ভেবে নিতে পারো মিছিলে মিলেছি, ভেবে নিতে পারো যা কিছু তোমার, নিভৃত অসময়, কে যেন তবুও হৃদয় […]