চিঠি

একটা সময় ভেবেছিলাম সন্ন্যাস নেব। তখন হয়ত ক্লাস ফাইভে পড়ি। সদ্য বঙ্কিমের কৃষ্ণচরিত্র পড়েছি। মনে হয়েছে অধ্যাত্মবাদের মধ্যেই আছে সমস্ত মিথ্যা, সমস্ত প্রবঞ্চনার থেকে মুক্তি। পারিনি। ধৈর্য্য ছিল না। হয়ত সাহসও ছিল না। সর্বত্যাগী সন্ন্যাসের জন্য সাহস লাগে। দুপুরের ভাতঘুম ছেড়ে যাওয়ার সাহস। তারপর এল ক্লাস এইট, নাইন। ‘আমি সুভাষ বলছি’ থেকে আর্কাদি গাইদারের ‘ইশকুল’। […]

নিতে চাও বলে ফেরাও আমায় …

সেই বুড়ো দরবেশের কথা মনে পড়ে গেল। তাসখন্দের আলো আঁধারি গলিপথে চিকচিকে পাথরের টুকরো ধরে সে একটু জিরিয়ে নিচ্ছে আজ। তার চোখে, কপালে অসংখ্য বলিরেখা। রোদ পিছলে যাচ্ছে তার কোঁচকানো চামড়ায়। দরবেশের ঝুলি অবহেলায় পড়ে আছে পথের ধারে। বর্ণমালার এক একটি অক্ষর নিদাঘ নিস্পন্দ হয়ে আছে। বাইরে তুমুল বৃষ্টি। তোরা কে কোথায় আছিস? সে ডাক […]

A one-way ticket to India

‘কয়’। একখণ্ড বিচিত্র সুপারির টুকরো নিতান্ত শান্তশিষ্ট পান পাতায় জড়ানো। সেই খেয়ে কৌশিক পর্য্যন্ত ভিরমি খেলো! মাঝবয়সী দোকানিমাসির ঠোঁট, দাঁত এই ‘কয়’এর রসে দিবারাত্রি লাল টুকটুকে। সেই সঙ্গে হাসিটাও। আমরা বিকেল হলেই সোহরার এই ছোট্ট খাওয়ার দোকানে জমিয়ে বসি। চা চলে। সঙ্গে এটা ওটা সেটা। আড্ডাও চলে বহুক্ষণ। যাবার আগে দোকানিমাসি, খাসি ভাষায় খলবলিয়ে কি সব […]

দার্জ্জিলিং

মার্ক টোয়েন নাকি দার্জ্জিলিং এসেছিলেন। সে আজ থেকে প্রায় সোয়াশো বছর আগের কথা। বলেছিলেন ‘পৃথিবীর সকল সৌন্দর্য্য জড়ো হয়েছে এই পাহাড়ে।’ সুমিতজির নেপালি চোখমুখ। কম্পিউটারে বসে বসে সন্তানের ছবি ওলটাচ্ছেন। ওনার পরণে টাইট জিন্স। কোমরে কাউবয় বেল্ট। চাঁদিতে আটকে থাকা সানগ্লাস। পাহাড়ের লোকজন সাজে খুব।  ফুটফুটে ছেলের গালে গোলাপি রঙের ছোপ। এক কোটি ছবি। স্মার্ট […]

এই পারে, ওই পারে

১। শুন্য দিনের শেষে হাঁটতে হাঁটতে যুবক ঢুকে পড়ল সেই খোঁয়াড়ে। আজ সে কিছুতেই আসতে চায়নি। কিচ্ছুতেই না। তার চোখ শুষ্ক। হৃদয় নিঃস্ব। একটা ফাঁকা ঘর পেলে, একটা বিশাল জানলা পেলে সে আজ সারাবেলা সুমন শুনত। কিন্তু কোথায় ফাঁকা ঘর? কোথায় নিস্তব্ধতা? সে সব রবি ঠাকুরদের বিলাসিতা। সে সব অভিমানী কঙ্কাবতীদের ব্যাথা। যুবকের জন্য আছে […]

কমরেডস…

বলিরেখা অসংখ্য। বৃদ্ধ-এর আঙুলগুলো দেখলে বন্ধু তীর্থেন্দু হয়ত ছবি তোলায় মগ্ন হত। বারোটাকার স্পেশাল চা বাড়িয়ে দিতে দিতে বৃদ্ধ বিড়বিড় করছিলেনঃ ‘আজ দুপুরেই লোকটা বেঁচে ছিল। দেখে গেছি। সন্ধ্যেবেলা এসে দোকান খুললাম। শুনি নেই! বাথরুমে পড়ে গেছিল। তারপর সব শেষ…’ উত্তর কলকাতার পলেস্তারা খসা বাড়ির কোটরে সিপিএম-এর পার্টি অফিস। তারই গায়ে বুড়োর চায়ের দোকান। বাইরের […]

স্পর্শকাতর ভুবনগ্রাম

অতঃপর শীলমহাশয় কহিলেন, “ইট ইস এলিমেন্টারি মাই ডিয়ার অশনি। ডিফারেনশিয়াল ম্যানিফোল্ড হইল ‘স্পর্শকাতর ভুবনগ্রাম।’ ”

এই যুগান্তকারি বাক্য উচ্চারিত হওয়া মাত্র, রিম্যান তাহার কবরে পাশ ফিরিয়া শুইলেন। মিলনরের জীবাত্মা লাফাইয়া উঠিল। স্বর্গলোকে মিনকোস্কি বিভূতিভূষণকে পাকড়াও করিয়া কান্নায় ভাঙিয়া পড়িলেন, ‘ভায়া, আর তো সয় না।’

অশনি সঙ্কেত ২ – ডিঙ্গামণি ধান

কেমন করে ২০০১ সালে চট্টগ্রামে পড়তে যাওয়া কৃষক পরিবারের সন্তান, ২০১৬ সালে আমতলি গ্রামে পৌঁছালেন? কি করে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কৃষি বিজ্ঞানির সঙ্গে তার পরিচয় হল? কি করেই বা বিচিত্ররঙা ডিঙ্গামণি ধান তাদের তিল তিল করে গড়ে তোলা খামারে এসে পৌঁছালো? আর কেনই বা সে নিয়ে তার সুখের চেয়ে দুঃখের ভাগটাই বেশি?

অশনি সঙ্কেত ১ – ভোটের এ-দেশ, ভোটের সে দেশ

পানশালার টিভির পর্দায় বার্ণিকে দেখা গেলে হঠাৎ হঠাৎ উচ্চারিত স্লোগানঃ ‘ফিল দা বার্ন’ (অর্থাৎ কিনা হে বড়লোক রক্তচোষার দল, ছেঁকাটা অনুভব করো)। বছর খানেক আগে স্কটল্যান্ডের অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ছিল।

সে সময় স্কটল্যান্ডেও এক ঐতিহাসিক গণভোটের তোড়জোড় চলছে। স্কটিশ ন্যাশেনালিস্ট পার্টির নেতৃত্ত্বে স্কটল্যান্ড, গ্রেট ব্রিটেন থেকে পৃথক হয়ে যেতে চায়। ভোটের মাধ্যমে ঠিক হবে বেশিরভাগ স্কটিশ জনগণের কি কাম্য। ভোটাভুটির ঠিক আগের সপ্তাহে হাজির হলাম সে দেশে।

Happy Money or the craft of making wealth in 21st century India

A curious study is floating in facebook re-posts. Search in google this statement:how much money is enough?  Turns out there is an answer! Apparently a Princeton group of researchers (really?!!) concluded that $75,000 per year is the magic number!.That is, a household income of $75000 a year in the United States, is the optimum amount […]