প্রেমের কাহিনী

দয়া করে আঁতলামিটা বন্ধ করো। এডভেঞ্চারের প্রেম, প্রকৃতির প্রেম, দেশপ্রেম এ সব হাবি জাবি বস্তুর কথা বলছি না। এমনকি পুরুষ-পুরুষ, নারী-নারী এসব প্রেমের কথাও হচ্ছে না (আমার অভিজ্ঞতা অল্প)।  আমি বলছি উত্তম – সুচিত্রা প্রেমের কথা। বলছি অশনি-অঙ্গনা প্রেমের কথা। একদম রসে টইটুম্বুর, রগরগে মহব্বতের কথা।

আমি এক ছাত্রের বাড়িতে আছি গ্লাসগোতে। নাম গুলো একটু পালটালাম। ধরা যাক ছাত্রের বাবার নাম সুমন আর মা অনিতা। সুমনদা আর অনিতাদি নাকি ক্লাস টু-এর থেকে একে অপরকে চেনেন। একই পাড়া, একই শহর। ‘আমি যখন প্রথম ওদের বাড়ি যাই, স্পষ্ট মনে আছে যে অনিতা, পেয়াড়া গাছে উঠে বসেছিল’ সুমনদা হাসতে হাসতে খাবার টেবিলে বললেন। এত পুরোনো কথা মনে আছে? তারপরেই ভাবলাম যদি আমিও আমার পাড়াতে প্রেম করতাম, তাহলে এমনটাই হত। হয়ত মনে পড়ত, আহা প্রথম যখন দেখেছিলাম তখন জানলায় দাঁড়িয়ে গলা ভাত খাচ্ছিল, অথবা ঘরে বসে বিজনেস খেলছিল, অথবা এইরকম একটা কিছু।

এখানে বেন ন্যভিস নামে এক পর্বতমালা আছে। হিমালয়ের তুলনায় নস্যি। কিন্তু রোপওয়ে চেপে পাহাড়ের গোড়া থেকে মাথা অবধি যেতে মন্দ লাগে না। রোপওয়ে যেখানে থামল সেখানে একগাদা রেস্তোরাঁ। বড় বড় কাঁচের জানলার পাশ দিয়ে মেঘ উঠে আসছে। এমনটা হয়েছিল দার্জিলিং-এর গ্লেনারিস-এ। তবে সে স্মৃতি আরও সহস্রগুণ মধুর। কেন তা নাই বা লিখলাম।

বেন ন্যাভিসের মাথায় চেপে আমার তার কথা মনে পড়ল। যেমন সবসময়ই পড়ে। আহা কতকাল ঝগড়া করিনি। কত যুগ যেন হাতাহাতি হয়নি। জীবনে সুখ নেই গো। দু একবার ফোন করে বিতর্কিত মন্তব্য করে টরে ঝগড়া করার চেষ্টা করেছি। হয়নি। দূরত্ত্ব এত বেশি যে ঠিক জমেনি। কে জানত যে প্রেমের ইতিহাসে ঝগড়ার অভাবটাই বেশি টের পাবো।

তখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হাফ বছর মত পড়েছিলাম। আমাদের প্রেমের কাহিনীতে কিছুদিন ইন্টারভেল চলছিল। ভিলেন তো নায়িকা সমেত পগাড়পার। আর নায়ক যাদবপুরের ক্যান্টিনে বসে চা কফি সাঁটাচ্ছে। ইত্যবসরে, আমাদের পাস পেপার নেওয়ার সময় এসে গেল। এ বিল্ডিং -এ যাই, সে বিল্ডিং-এ যাই। কিছুই ঠিক মনে ধরে না। এমনি এক দিন, বিকেল নাগাদ ইন্টারন্যাশন্যাল পলিটিক্স না কি একটা বিষয়ের ক্লাসরুমে গেছি। অধ্যাপিকা মিনিট তিনেক দেরিতেই এলেন। ছোট মত চেহারা। ঈষৎ শ্যামবর্ণ রং। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল তার আঙুলগুলো! এক্কেবারে ‘তার’ মত যে। গোল গোল। ফুলকো ফুলকো! ব্যস আমি ভরতি হয়ে গেলাম সেই কেলাসে। ‘তাকে’ দেখতে নাই বা পেলাম, ‘তার’ আঙুল তো দেখতে পাবো।

কৈশোরে বা যৌবনে প্রেমের কাহিনী এমনই জবরদস্ত ন্যাকামোতে ভর্তি থাকে। আর ব্যাপার স্যাপার যতই ন্যাকা বোকা হোক না কেন, যখন করেছিলাম, তখন তো রীতিমত জ্যান্ত ছিল।

বেন ন্যাভিসের চূড়ায় হোক বা আরকানসাসের প্রান্তরে, পিরিতি কাঁঠালের আঠা… এ আঠা লাগলে পরে ছাড়ে না…

Join the Conversation

1 Comment

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: