আমার বিয়ের গপ্পো (১)

উপক্রমণিকা

গুগুলে গিয়ে লিখে ফেল্লাম টকাটকঃ বাঙালি হিন্দু বিবাহ

প্রথমেই উইকিপিডিয়ার সুদীর্ঘ প্রবন্ধের লিঙ্ক। আমি পড়তে শুরু করলাম।

১।

প্রেমিকার বেজায় ইচ্ছা, সব আচার বিচার মেনে বিয়েটা হোক। আমিও সেরকমই চাই। কারণটা নিতান্ত দুর্গাপুজোর হ্যাঙওভার বললেও অত্যুক্তি হবে না।

ছেলেবেলা থেকে পাড়ার দুর্গাপুজোয় আমি ভলান্টিয়ার। মুর্তির অর্ডার দেওয়া থেকে শুরু করে, বিজয়া সম্মিলনির নাটক অবধি, আমাদের ব্যাস্ততার অন্ত থাকত না। যে কটা হিন্দু বাঙালি বিয়ে দেখেছি, দুর থেকে দেখে শোরগোলটা খানিক দুর্গা পুজোর মতই মনে হয়েছে। সেই গাত্র হরিদ্রা (যেমন কলাবউ স্নান করানো), বর-কনে সাজানো (যেমন ঠাকুর সাজাই আমরা), লাজহোম, সপ্তপদী গমন (যেমন সন্ধি পুজো), কুশন্ডিকা (দর্পণ বিসর্জন), লোক খাওয়ানো (যেমন পুজোর পংতি ভোজন)।

আর শেষমেশ ‘বিসর্জন’।

তাই মনুসংহিতা কতটা রিগ্রেসিভ, এক কাঁড়ি টাকা এই আচার বিচার, লোক খাওয়ানোতে ‘নষ্ট’ হয় কিনা, এসব না ভেবে আমরা লম্বা রাস্তা ধরব বলে স্থির করলাম। বিয়েটা আমরা দস্তুরমত করব।

কিন্তু স্থির করলেই তো হল না। প্রেমিকার পিতা ‘সেই সিপিআই’ আর আমার বাড়ির লোক ‘তবুও সিপিএম’ অথবা ‘সেমি নকশাল’। তারা প্রথমে কিঞ্চিৎ ভ্রু কুঞ্চিত করলেন। জয়েন্ট রিসেপশন আর সইসাবুদ করলেই যখন ল্যাঠা চুকে যায় তখন ইতনা ঝামেলা কিঁউ?

সে যাই হোক। বাড়ির লোককে বাগে আনতে সমস্যা হল না (একমাত্র কন্যা আর একমাত্র পুত্র; অতএব মাইলেজ বুঝে নিন)। কিন্তু সমস্যা হল আচার বিচারের তত্ত্ব তালাশ করতে। আমার বাড়িতে পুজোআচ্চার চল নেই। বিয়ের মত জটিল ‘পুজোর’ খুঁটিনাটি কারোরই তেমন জানা নেই। একটা মোটামুটি ধারণা সকলের আছে অবশ্য। কিন্তু ডিটেলিং-এর বড় অভাব।

অতএব আমি কোনো এক তুষারমৌলি সন্ধ্যায়, দেশ থেকে হাজার দশেক মাইল দুরে, চাঁদিতে চশমা নিয়ে বসে পড়লাম ল্যাপটপের সামনে। হে গুগুলবাবা, আমায় বিদ্যা দাও! উইকিপিডিয়া পড়েই শুরু হোক আমার বিবাহ আয়োজনের শুরুয়াদ।

(ক্রমশঃ)

 

পিছুটান

পরীক্ষা থেকে বেড়িয়ে দেখি তিনটে মেসেজ!

‘কি ব্যাপার? কোথায়?’

ফোন করলাম। ‘আমি তো এই বেরোলাম হে। তুমি কোথায়?’

‘কেনিলওয়ার্থের লবিতে। এসো তাহলে। অপেক্ষা করছি।’

পাকিস্তানের যুবক রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস স্টপে আলাপ। তারপর প্রায়ই আসতে যেতে দেখা হয়। দোল উৎসবে ও রঙ খেলতে চলে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ছুটে গিয়ে পিঠে চাপড় মারি। ‘কি হে কি খবর?’

আমি দেশে ফিরব শুনে রহমান বলেছিল, ‘তাহলে যাওয়ার আগে দেখা করতেই হবে।’

পৌঁছলাম কেনিলওয়ার্থে। ক্ষিধেয় পেট চোঁ চোঁ করছে। আজ পরীক্ষা আর সাবমিশন ছিল। অতএব রান্না করার ফুরসত পাইনি। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে লবিতে ঢুকে দেখি রহমান একগাল হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে। আর পাশেই এডিন বসে।

‘ব্যাপার কি হে?’

‘অম্মি পাঠিয়েছে। এই দেখো!’

বিরিয়ানি! সহস্তে প্রস্তুত স্নেহজারিত পরমান্ন। দুপুরের খাওয়া তো হলই। তারওপর রাত্তিরের টাও।

চললাম বললেই যাওয়া যায় না। আকাশ মেঘে মেঘে ভার হয়ে থাকে। টিপটিপ বৃষ্টি, ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়া আর টিম টিম করে জ্বলতে থাকা কফিশপের আলো। যাবো বললেই যেতে পাবে নাকি?

অনুপমা বললে, ‘তুই আর সন্দীপ তো পালাচ্ছিস। যাওয়ার আগে আমার বাড়িতে আড্ডা বসছে কিন্তু।’

বসুক আড্ডা। হয়ে যাক খিচুড়ি। সহযোগে মাছভাজা! গতকাল ওর বাড়ি পৌঁছলাম সন্ধ্যে সাতটায়।

‘শোন এই ল্যাব থেকে ফিরলাম। আজ টানা ন’ঘন্টা। কিন্তু জানি না কেন বিশাল এন্থু জাগছে। ইনফ্যাক্ট পেঁয়াজি ভেজে ফেলা যাক।’

পেঁয়াজির সাথে পেঁয়াজি চলে না। ইচ্ছা যখন করছে, তখন হয়ে যাক!

আমাদের জনা ছয়ের আড্ডা তখন একটু একটু করে ঘন হচ্ছে। শুভঙ্কর সদ্য একটা পেপার পাবলিশ করেছে। আরেকটার প্রস্তুতি চলছে। সন্দীপ ব্ল্যাকরোস বার থেকে ফিরেছে একটু আগে। ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের একটা গেট টুগেদার ছিলো। সৃজনীও বোধহয় ল্যাব থেকে ফিরেছে। আর পৌঁছে আলাপ হল অহনার সাথে। কর্নাটকের মেয়ে। প্রযুক্তিবিদ্যা নিয়ে পড়ছে।

অনুপমা পেঁয়াজির আয়োজন করতে করতে বললে, ‘তোকে নতুন আঁকাটা দেখিয়েছি?’

ও আর ওর প্রেমিক যুগলে এঁকেছে। ক্যানভাসে উজ্জ্বলতার ছড়াছড়ি। ছবি, গান, চা, ডালমুট, খিচুড়ি, মাছ ভাজা (…) । কার কি কাজ চলছে সেই নিয়ে আড্ডা।

প্রোটিন ফোল্ডিং-এর প্রবলেমএর সাথে কম্বিনেটরিক্সএর যোগাযোগ হতে পারে? গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভসের ডিটেকশনে লোকে কি মুখ খারাপ করে? আইরিশ অধ্যাপক আর ভারতীয় গবেষকের ত্রহ্যস্পর্শে কি অসম্ভব সাধিত হতে পারে?

কলেজ সিনেমা কলকাতা ইলিশ। বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত আড়াইটা।

‘সাবধানে যাস।’
‘কাল একটায় বাস ধরব’।
‘না না তার আগেরটা ধরিস।’
‘ঠিক আছে!’

সকালে ঘুম থেকে উঠলাম সাড়ে আটটায়। মোবাইলের জ্বালাতনে। কি ব্যাপার? অরুন্ধতী দেশে যাচ্ছে আজ। আমি যাবো কাল। দুদিন পর সন্দীপ যাচ্ছে ইয়েলোস্টোন। অতএব এই গ্রুপটারও আড্ডা প্রয়োজন। সক্কলে প্রাতরাশে মিলতে হবে সকাল সাড়ে নটায়। সেই নিয়ে তরজা চলছে হোয়াটসাপে। কোনো রকমে দাঁত মেজে গায়ে জামা চড়িয়ে বিন্স এন্ড বার্লিতে পৌঁছলাম। পাকিস্তানি, ভারতীয়, চাইনিজ। মানুষ।

দুপুরে দুর্গা এসে বললে, ‘প্যাকিং হয়েছে? চলো তোমার সাথে গিফট কিনতে যাবো। আমি বেছে দেবো।’ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পিক এন্ড সেভ যাওয়া হল। কেনাকাটা করা হল কিছু কিছু। দেশে ফিরছি সাড়ে তিনমাস পর। বন্ধু, ভাই বোন, প্রেমিকা, মা বাবা, সক্কলের জন্য যৎসামান্ হলেও নিতে ইচ্ছা করে। সাধ থাকলেও সাধ্য সীমিত। সীমিত বাজেটে ভালো উপহার নিয়ে যেতে হবে। মধ্যবিত্তের চিরকালীন ডিলেমা।

দুর্গা নিজেই বেছে দিলে সব উপহার। এই চকলেট, ওই কফি, সেই নেলপলিশ।

ঘরে ফিরে দেখি এডিন এসে হাজির। ওর কাল কনভোকেশন।

‘শোনো হে। অনেক আনাজ জমে আছে। একটা রেসিপি ভেবেছি। রেঁধে ফেলা যাক।’

‘আচ্ছা আমি বাসন ধুয়ে দিচ্ছি। আসছি।’ সাবান নেওয়ার জন্য ঘরে ফিরতেই থমকালাম।

ঘরটা ফাঁকা হয়ে গেছে। সমস্ত জিনিস প্যাকড। আমার লাগেজটা শুধু এক পাশে রাখা। দেশে ফেরার নেশায় আমি ভুলেই গেছিলাম যে এখানেও আমার দেশ আছে। স্নেহ আছে, ঘর আছে, বন্ধু আছে, আড্ডা আছে। শুধু ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া…’

‘বড় স্যসপ্যানটা নেবো নাকি?’ ডাইনিং স্পেস থেকে এডিনের ডাকে চমক কাটল।

‘আসছিইইই। এক মিনিট!’

ছুট

পতরি থাকে পুবপাড়ায়। ওর ঘর থেকে মিহিন নদী দেখা যায় না মোটে। সাঁঝবেলায়, বুড়ো বটের থানে, মকাইঠাকুর ইলি বিলি পড়েন। ইদিক সিদিক, এপাড়া সেপাড়া থেকে মেয়ে, বুড়োরা জটলা করে।
Continue reading “ছুট”

আটকায় কেডা?

সপ্তপদী, তিন ভুবনের পারে, মৌচাক, আবহমান, সোনার কেল্লা, অনু, বেলাশেষে, প্রাক্তন, কলকাতা একাত্তর, সাড়ে চুয়াত্তর…

বল দেখি এগুলোর মধ্যে মিল কিসে?

উত্তর পারলে অবিশ্যি প্রাইজ নেই (যদিও আমার পিলে চমকাবে বিলক্ষণ!)

এসব ফিলিমেই প্রধান চরিত্রগুলো তিনকথায় হচ্চে ‘বাঙালি হিন্দু ভদ্দরলোক’ । চাটুজ্যে বাঁড়ুজ্যে, ঘোষ, বোস, মিত্র, এই সব।

বামন কায়েত আর বদ্যি মিলে জুলে হয় পশ্চিমবাঙলার জনসংখ্যার বিশ ভাগ (১)।

আজ অবধি বাঙালির যত্ত ফিলিম, যত্ত লেখা জোখা, যত্ত গান, যত্ত কবিতা তার পনেরো আনাতেই বামন+কায়েত+বদিদের গপ্পো। তাদেরই বানানো। তাদেরই কথা। অর্থাৎ এই যে এত্ত কালচার কালচার করে হাঁক ডাক, এই যে এত্ত সেকুলারিজম থেকে মার্ক্সবাদের মোচ্ছব, এর সবটাই হচ্চে ওই বিশ ভাগের জমিদারি। এই যে আমি ইস্টাইলে মাণিককাকা বা দাড়িদাদু কপচাই, অথবা চারু মজুমদার বা জ্যোতি বোসের (!) এর ভেঁপু বাজাই, তারও সবটাই ঐ বিশ ভাগ!

তোমার প্রেসি বা যাদবপুরের বিপ্লবী দাড়ি ঐ বিশ ভাগ। তাদের শ্যামাপ্রসাদ মুখুজ্যে আর গেরুয়া হাঁড়ি, সেও বিশ ভাগে!

এট্টু ঠাহর করে দেখো স্ক্যামখানা। একটা গোটা জাতের আশি ভাগ দেখছে যে এত্ত গপ্পো, সিনেমা, বিপ্লব, হিন্দুত্ত্বতে তারা বেমালুম উধাও। তাদের জীবন, তাদের সুখ দুঃখ, তাদের কথা বলার ধরণ বা ভালবাসার কায়দা, এসব অদৃশ্য! জাস্ট নেই।

এবার কোশ্চেন হচ্ছে, এই আশি ভাগ তাদের আপন কথা বল্লেই পারে। বাউন কায়েতেরা গান গেয়েছে, ছবি বানিয়েছে, বা বিপ্লব-হিন্দুত্ত্বর পতাকা তুলেছে, তা তুলুক। ক্ষেতি নেই। তা বলে বাকি যে আশি ভাগ তারা তাদেরটা বলে না কেন?

তাদের আটকাচ্ছে কেডা? হেইটাই হইল মোক্ষম কোশ্চেন।

আজ ২২এ এপ্রিল। লেনিনের জন্মদিন।
——————————————–

(১) তথ্যসূত্র আউটলুক ইন্ডিয়া।

প্রণয়

কানেকটিকাটের এক যুবকের সাথে কাশ্মিরী কন্যার প্রণয়।

রাত দশটা বাজে। বাসায় ফিরে দেখি ডাইনিং স্পেস অন্ধকার! বুঝলাম সে ঘরে আছে।

সে ঘরে থাকলে অকারণে বাতি জ্বলে না। ফ্রিজের দরজা বন্ধ থাকে ঠিকমত। মাইক্রোওয়েভে খাবার ঢুকলে তার সাথে সাথে ঢাকনাও ঢোকে। টেবিল চেয়ার থেকে বাথরুমের কমোড, সব থাকে ঝকঝকে তকতকে। কতক সে নিজে করে, কতক সে আমাদের দিয়ে করিয়ে নেয়।

কানেকটিকাটের ছোকড়ার বয়েস বাইশ। দোলপূর্ণিমার হপ্তা খানেক পরে আমাদের ঘরে একটা খানাপিনা রঙারঙির জটলা হয়েছিল। ছেলে সেখানে জুটে গেছিল দিব্যি।

এমনিতে আমার ঘরে প্রায়ই আড্ডা হয়। বঙ্গসন্তানরা গলা ছেড়ে রবি ঠাকুর, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ে ডুব দেয়। মারাঠি তরুণী গজল আর প্রাচীন হিন্দী গানে গলা মেলায়। ঝাঁকড়া চুলো যুবকের গীটারে নামেন অঞ্জন দত্ত বা বিলিতি ব্যাণ্ড। এ সবের মাঝে পাকিস্তানি বন্ধুর ব্যাঞ্জন নৈপুণ্যে নরক পুরো গুলজার হয়ে ওঠে।

এরই মধ্যে ঢুকে পড়েছিল সেই পঁচাশি ভাগ আইরিশ যুবক। (তার নিজের জবানিতেই এই ভাগযোগ; আমি নিতান্ত জোড়াসাঁকোর হদ্য বাঙালি। এইসব বিলিতি পাঁচামিশালির মিশেল বোঝা আমার কম্ম নয়)। গত মাসে, দোলের হপ্তা খানেক পর, কাশ্মিরী কন্যার জন্মদিন উপলক্ষে আমরা যখন হুল্লোড় করছি, তখনই বোধহয় এই বসন্ত বিলাপের শুরু।

আমার অবশ্য বেশ লাগছিল। ঘটকালি কচ্ছিলাম চুপি চুপি। ইতিমধ্যে মাস্টার স্ট্রোকটা মাণিকবাবু দিলেন।

১৯৯৩ সালে লন্ডনের হেন্ডারসন ল্যাব। পথের পাঁচালি আর অপরাজিত-র মুল প্রিন্ট ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেল। সেগুলোকে আবর্জনার পাত্রেই ফেলার কথা। কিন্তু ফিল্ম রসিকরা প্রাণে ধরে তা করতে পারলেন না। পুড়ে যাওয়া সেলুলয়েড ঠাঁই পেলো মার্কিণ সংরক্ষণশালায়।

মাত্র কয়েক বছর আগে মার্কিণ দেশের জ্যানাস ফিল্প কর্পোরেশন সেই দগ্ধ ফিল্মগুলিকে রেস্টোর করেছেন। অতি পরিশ্রমসাধ্য কর্মযজ্ঞ। পারলে ইউটিউবে দেখবেন এই পুনরুদ্ধার বৃত্তান্ত। ফ্রেম বাই ফ্রেম ফোর-কে রেস্টোরেশনের অন্তে যা দাঁড়িয়েছে, তাকে ম্যাজিক বললে কম বলা হয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর মাধ্যমে আনিয়েছিলাম এক কপি।

‘দেখবি নাকি অপুকে?’

মেয়ের মহা উৎসাহ। বাঙলা বোঝে না একবর্ণ। কিন্তু সে পথের পাঁচালি দেখলে এক নিশ্বাসে! অপরাজিত থেকে অপুর সংসার পুরো কেঁদে ভাসিয়ে দিলে। এ বস্তু না দেখলে পেত্যয় যাবেন না কত্তা!

সে যাই হোক, অপুর সংসার নাগাদ আমাদের নায়কও জুটে গেলেন ফিলিম উৎসবে।

ওদিকে অপর্ণা বলছেন ‘আমি নতুন নাকি?’ আকাশে কয়লার ধোঁওয়া উঠছে কুণ্ডলী পাকিয়ে। আর এদিকে উত্তর কলকাতার বৃষ্টি আমার মিলওয়াকির গৃহে উপস্থিত!

তারপর থেকেই দেখি মেয়ে প্রায়দিন রান্না করে। বন্ধুরা জানায় যে ছেলেটির পড়ার ঘরে তার নাকি প্রায়ই আনাগোনা। সাথে খাবার দাবারও নাকি থাকে রোজদিন (বন্ধুরাও ভাগ পায় কিনা!)

এদিকে ঘর আমাদের গৃহ উঠছে ধীরে ধীরে। একদিন দেখি যুবকটি রাতভোর খটর খটর করছে। সক্কালে উঠে তো আমি থ। দুজনে মিলে সারারাত ওর ঘর সাফ করেছে। যে ঘর আগে ধাপার মাঠ ছিলো সে আপাতত অপু-দুগগার উঠোন।

মুখ হাত ধুয়ে শুতে যাচ্ছি। মেয়ে হঠাৎ বেরিয়ে এলো ওই ঘর থেকেই।

‘আচ্ছা সসপ্যান দুটো তুমি আজ ব্যাবহার করবে?’

‘না তো’।

‘আচ্ছা। তাহলে ভাবছি ওতে একটু রাঁধব। আজ ওর ফিরতে রাত একটা হবে তো। তাই খানিক ডিনার করে রাখব ভাবছি।’

আমি হেসে বললাম, ‘বেশ তো’।