Portrait of a teacher – my doctoral advisor

It is all true. Delta K is compact. Boundary is locally connected. All of it.

I never worry about getting a job. I am mercenary by nature. There is food out there. I can earn it.

I do worry about seeing the truth. I also worry a lot about doing a job right. Will I ever be able to definitively articulate a truth that was hitherto unknown? I read Socrates, Rabindranath, Hilbert. Their intellectual journey mesmerises me. I never imagined that my mercenary self will be able to face moments of truth in this insignificant life. But it is happening. The lethergy of my brain cells are unwinded by my teacher. After six years of shaky journey in mathematics, I am beginning to see shreds of truths.

I am still unsure why he took the pain of doing this. He surely has ten thousand other things to do. He has his own truths to uncover. He has scores of collaborations with experts in the field. Nevertheless he choses to spend two valuable hours of his life every week with me, year after year. With a child like enthusiasm he explains trivial vocabulary and non-trivial insights. At times I do not remember things he explained earlier. He stays unabashed and begins again from scratch.

There are weeks when turbulence of my personal life almost jeopardises this journey. He picks up the pieces every time. Almost magically I am able to reboot the process. We never speak about personal matters and get right to the point. I am even uncomfortable to respond to his ‘how are you?’ I tell myself, ‘every minute matters.’

In India, we have the custom of ‘pronam’. A student usually touches the feet of the teacher. It is an expression of respect. I could not offer pronam to my advisor before leaving the university. The pandemic came in the way. Even otherwise I would have been too shy to actually materialise this public display of respect.

My teachers have transformed me. James Clark, Swadhin Pattanayak, Amartya Mukherjee, my doctoral advisor. Whenever I reflect on the unkind parts of my life, I feel that they are insignificant compared to the kindness of my teachers. It is almost like they made my success their business.

Pronam sir.

স্বাক্ষর

প্রখ্যাত গণিতজ্ঞ হার্ডি লিখেছেন, ‘a mathematician, like a painter or a poet, is a maker of patterns. If his patterns are more permanent than theirs, it is because they are made with ideas.’

অথচ আমরা স্পষ্ট জানি যে কিছুই থাকে না। থাকে কি? থাকে না সেটা জানি বলা ঠিক নয়। চিরকালীন বলে কিছু হয় কিনা জানতে হলে চিরকাল থাকতে হবে। অতএব বলা ভালো যে পার্মানেন্ট বলে কিছু হয় কিনা সেটা আমরা জানিনা। ‘মোর পার্মানেন্ট’ কিন্তু ‘পার্মানেন্ট’ নয়। যেমন ‘বেটার’ মানেই ‘গুড’ নয়। এই অমরত্ত্বের প্রত্যাশার মধ্যে অলীক মায়া প্রচ্ছন্ন হয়ে আছে। বলতে দ্বিধা নেই যে আমিও আপাতত মায়াচ্ছন্ন হয়ে আছি।

সম্প্রতি আমার এ্যাডভাইসার ক্রিস (এবং আমি নিজে) কিঞ্চিৎ উৎফুল্ল বোধ করছি। একটা তেইশ বছরের পুরোনো গাণিতিক কনজেকচার সমাধান করা গেছে। বিগত ছয় বছরের পরিশ্রম একটা পরিণতি পাচ্ছে। আনন্দ হওয়ারই কথা। পেপার হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার আগেই ভ্যান্ডারবিল্টের অন্য দুজন গবেষকের পেপারে আমাদের সমাধানটির সাইটেশন হয়ে গেছে। তারা অবশ্য আমার ডকটরাল থিসিসটাকেই সাইট করেছেন।

যারা গবেষণার জগতে আছেন, তাদের কাছে সাইটেশন বস্তুটি লোভনীয়। সাইটেশনের অর্থ হলো আমার থিয়েরেমটি অন্য একজন তার গবেষণায় ব্যবহার যে করছেন তা উল্লেখিত হওয়া। সেই ‘অন্য একজন’ যদি গুরুত্ত্বপূর্ণ গবেষক হন তাহলে তো কথাই নেই। জোর সম্ভাবনা যে অমরত্ত্বের প্রত্যাশা বুকে খলবলিয়ে উঠবে।

বাঙালি কিন্তু অমরত্ত্বের পরোয়া করে না। সে বছর বছর মুর্তি বানায়। স্রেফ পাঁচ দিনের জন্য প্রচন্ড আয়োজন করে। তারপর সেসব ফালাইয়া থোয়। আসছে বছর আবার হবে! বাঙালির অভিধানে পার্মানেন্সি, ডিটারমিনিসম, অমরত্ত্বের প্রত্যাশা সবই যেন কমের দিকে। অন্তত জাতটার অভিমুখটা তাই মনে হয়। অমর্ত্য সেন তার সাম্প্রতিক বই ‘Home in the world’-এ বাঙালির আড্ডার বিষয়ে লিখেছেন, ‘idle chatting without intention’। অতএব আড্ডা বস্তুটিও যাবতীয় অমরত্ত্বের প্রত্যাশার মুখে ঝাঁটা মেরে দিব্যি বেঁচে বর্তে আছে। Intent না থাকলে ‘প্রত্যাশা’ আর থাকবে কি করে? আর সেই কি সত্য নয়?

হিলবার্টের দ্বাদশ সমস্যা – সমিত দাশগুপ্ত, মহেশ কাকড়ে

সমিত দাশগুপ্ত এবং মহেশ কাকড়ে হিলবার্টের দ্বাদশ সমস্যাটি সমাধান করে ফেলেছেন। শতক প্রাচীন দুরুহ প্রশ্ন।

জার্মান গণিতজ্ঞ হিলবার্ট ১৯০০ সালে ২৩টি গাণিতিক সমস্যার একটা লিস্ট বানিয়েছিলেন। সমস্যা গুলো পরবর্তী শতকে বহু গণিতজ্ঞকে ভাবিয়েছে। এইটি তারই একটি। (দৈনিক আনন্দবাজার দাশগুপ্ত-কাকড়ে-র কাজটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন। দুঃখের বিষয় সেখানে বাঙালি-টাঙালি বলে কিসব একটা যেন তারা করতে চেয়েছেন। মুল সমস্যাটা নিয়ে কোনো কথা লেখেননি। সমাধানের প্রকরণ তো অউর দূর কি বাত)।

আমি নাম্বার থিয়োরিস্ট নই। তবু একটা চেষ্টা করছি সমস্যাটা কি বোঝানোর। খানিকটা ধৈর্য লাগবে। কিন্তু বোঝা যাবে। কতক গুলো শব্দ জানতে হবে।

[ফিল্ড] হচ্ছে এমন একটি সেট, যার মধ্যে থেকে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ* করা যায়। ফিল্ডের যে কোনো দুটো সদস্যকে যোগ বা বিয়োগ করলে, সেই সেটের আরেকটি সদস্য পাওয়া যাবে। ফিল্ডের যে কোনো দুটো সদস্যকে গুণ অথবা ভাগ করলে, সেই সেটের আরেকটি সদস্য পাওয়া যাবে।

ফিল্ড যেন এক স্বয়ংসম্পুর্ণ জগৎ। যা হবে সেটের মধ্যেই হবে বাইরে বেরোবে না।

উদাহরণঃ { ১/২, ৫/৩, ০, -৩/৪, … } – সমস্ত rational number (অর্থাৎ যে সব সংখ্যাকে দুটো গোটা সংখ্যার অনুপাত হিসেবে লেখা সম্ভব, তাদের সেট।

[গ্রুপ] হচ্ছে এমন একটি সেট যার মধ্যে থেকে শুধু যোগ বিয়োগ করা যাবে।
‘যোগ’ বলছি বটে কিন্তু সদস্যরা যদি সংখ্যা না হয়? তাহলেও যদি দুটি সদস্যকে ‘মিলিত’ করার কোনো পদ্ধতি বলতে পারি তাহলে সেই অপারেশনটিকে যোগের বদলে # বলব। মাথায় রাখতে হবে যে গ্রুপের সদস্যরা সংখ্যা নাও হতে পারে।

উদাহরণঃ {… -৩, -২, -১, ০, ১, ২, ৩, … } … সমস্ত গোটা সংখ্যা। যে কোনো দুটো গোটা সংখ্যাকে যোগ করলে অথবা বিয়োগ করলে গোটা সংখ্যাই পাওয়া যায়।

[ফিল্ড এক্সটেনশন] – একটা ফিল্ড যদি আরেকটার পেটের মধ্যে থাকে তাহলে বড় জন-কে ছোটটির ফিল্ড এক্সটেনশন বলা যাবে।

[Abelian গ্রুপ] – ধরা যাক G = {a, b, c, d, … } একটি গ্রুপ। যদি a#b = b#a হয় তাহলে গ্রুপটিকে Abelian বলা হয়। কিছু কিছু গ্রুপের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। তারা Abelian নয়।
আমাদের কারবার হবে একটা ফিল্ড ‘ক’ এবং তার এক্সটেনশন ‘খ’ কে নিয়ে। ‘ক’ হচ্ছে ছোট জন। আরে তাকে পেটের মধ্যে রেখেছে বড়জন।

ক –> খ অবধি আমরা ফাংশন বানাতে পারি। ফাংশন মানে কি? ব্যাপারটা রংমিলন্তির মত। ক-এর প্রতিটি সদস্যকে কোনো একটা নিয়মে খ-এর সদস্যদের সাথে মিলিয়ে দিতে হবে। এই মিলিয়ে দেওয়ার এক একটি নিয়ম হচ্ছে এক একটি ফাংশন। এরকম অনেক নিয়ম (অনেক ফাংশন) থাকতে পারে। ফাংশন গুলোর একটি সেট বানানো যাক।

ক –> ক অবধিও ফাংশন হতে পারে। ক-এর সদস্যদের ক-এরই অন্য সদস্যদে সাথে মিলিয়ে দেওয়া যায়।

যেমন ধরা যাক ক = {সাহেব, বিবি, গোলাম}। এবার ক থেকে ক অবধি মিলন্তি খেলা যাক। ফাংশন বানানো যাক।

  • ফাংশন ১ঃ
    • সাহেব –> বিবি,
    • বিবি –> গোলাম,
    • গোলাম –> সাহেব
  • ফাংশন ২ঃ
    • সাহেব –> সাহেব,
    • বিবি –> গোলাম,
    • গোলাম –> বিবি

এমন আরো কতো ফাংশন হতে পারে। ফাংশনদের সেটা কে আমরা Automorphism বলব।
‘ক’ একটা ফিল্ড। খ হচ্ছে ক-এর ফিল্ড এক্সটেনশন। অর্থাৎ ক আছে খ-এর মধ্যেই। এবার খ –> খ সব automorphism গুলো দেখা যাক। এর মধ্যে কতকগুলো ‘ভালো ফাংশন’। ভালো ফাংশন গুলোর একটা গুণ আছে। তারা ছোট ভাইকে ঘরছাড়া করবে না। অর্থাৎ x যদি ক এর সদস্য হয়, তাহলে ভালো ফাংশন x কে x -এর সাথেই মিলিয়ে দেবে। নড়া চড়া করাবে না।
এই ভালো ফাংশনের সেট-কে গ্যালোয়াঁ গ্রুপ বলা হয়। যদি এই গ্রুপটি abelian হয় তাহলে খ-কে ক-এর abelian field extension** বলা হয়।

হিলবার্ট শুধোলেন যদি L যে কোনো ফিল্ড হয় এবং K তার abelian এক্সটেনশন হয় তাহলে এই K -কে L -এর থেকে গড়ে তুলতে কি কি অতিরিক্ত সদস্য লাগবে? K যেহেতু L -এর বড়ভাই, বড় সেট যার মধ্যে L আছে, তাহলে K -এর মধ্যে আরো কিছু থাকতে হবে। এই ‘আরো কিছু’-রা কারা? [যদি যানা থাকে যে এক্সটেনশনটি abelian]।

সমিত দাশগুপ্ত, মহেশ কাকড়ে এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে বার করেছেন।
———–অশনি আরণ্যক ———–

**algebraic abelian extension

*ফিল্ডের মধ্যে ০ থাকবে। তাকে দিয়ে ভাগ করা যাবে না।

বড় বিপদটা কোথায় – সুগত বসু, গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক – আনন্দবাজার

জানুয়ারি ২০২১

প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে ঘরোয়া আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গ, ভারত বিশ্ব নিয়ে নানা চিন্তা এবং উদ্বেগের কথা বললেন মানবিকবিদ্যার তাত্ত্বিক গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক এবং ইতিহাসবিদ সুগত বসু

আপনারা দু’জনেই প্রথমে কাজের সূত্রে, পরে জীবনের সূত্রে প্রবাসী। কিন্তু প্রবাসী হয়েও দু’জনেই বাংলায় কাজ করেছেন, এক জন সামাজিক কাজ, অন্য জন রাজনৈতিক কাজ করার সূত্রে বাংলা ও বাঙালির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। একটা অন্য রকম জানালা আছে আপনাদের দু’জনেরই। কী মনে হচ্ছে এখন, পরিস্থিতি কি বদলাচ্ছে, বাংলার?

সুগত বসু: অবশ্যই বদলাচ্ছে। আগে বলি, আমি বাংলায় তিন ধরনের কাজ করেছি। গবেষণার সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের জেলায় জেলায় ঘুরে গ্রামীণ অর্থনীতি, সমাজ বোঝার চেষ্টা করেছি। রাজনীতিও। পশ্চিমবঙ্গে তখন বর্গা রেজিস্ট্রেশন চলছে। রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পে যেতাম, মেদিনীপুরে, বর্ধমানে, পশ্চিম দিনাজপুরে। তখন রাজনীতি ছিল স্পষ্টতই শ্রেণিভিত্তিক। যদিও আমার মনে হয়েছিল, যাঁরা চাষ করেন বর্গাদার তো তাঁদের ৫%; যাঁরা খেতমজুর, তাঁদের সম্বন্ধে কমিউনিস্টরাও যথেষ্ট চিন্তা করছেন না। যাঁদের অল্প কিছু জমি আছে, ছোট চাষি, তাঁদের সমর্থনের উপর ভিত্তি করা হচ্ছে, পঞ্চায়েত হওয়াতে সেটা জোরালো হয়েছিল। আমার অন্য একটা কাজ অবশ্যই নেতাজি রিসার্চ ব্যুরো ও নেতাজি ভবন। সেটা আমার বাবা-মায়ের কাজ, প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন তাঁরা। নেতাজির সহযোদ্ধাদের দেখেছি, দেখেছি তাঁদের মূল্যবোধ বা ভাবাদর্শ— এই সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের কতটা ঊর্ধ্বে তাঁরা। তৃতীয়ত, ২০১৪’য় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বললেন সংসদের নির্বাচনে দাঁড়াতে। রাজি হলাম, কারণ মনে হয়েছিল ভারতবর্ষ খুব বড় রাজনৈতিক বিপদের সামনে। কংগ্রেস ধসে যাচ্ছে, বিজেপির বিপদকে আটকাতে হলে আঞ্চলিক দলগুলিকে ভাল ফল করতে হবে। সে বার বিজেপি জিতেছিল, যেটা এক দিক থেকে ২০১৯-এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বহু বছর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অচ্ছুত, ‘পারায়া’ থাকার পর সে বারই রাষ্ট্রক্ষমতার সূত্রে একটা গ্রহণযোগ্যতা, বৈধতা পেলেন নরেন্দ্র মোদী। পরের পাঁচ বছর চেষ্টা করেছি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ধর্মের দিক দিয়ে সংখ্যাগুরুবাদের উত্থানের নীতিগত বিরোধিতা করতে। বলেছি, এটা কোনও গণতন্ত্র নয়, নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগুরুবাদ। ঐক্য আর একত্বকে গুলিয়ে ফেলা। ইউনিটি-র বদলে ইউনিফর্মিটি।

সূর্য: পশ্চিমবঙ্গে ৪৪৪০টি স্কুল রয়েছে। পুরুলিয়া ৩৯০, বীরভূম ৩৬০, বাঁকুড়া ২৭০, মেদিনীপুর ৩৬০, নদিয়া ৩০০, মুর্শিদাবাদ ২৭০, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ৩০০, উত্তর ২৪ পরগনা ৩৯০, মালদহ ২৭০, দক্ষিণ দিনাজপুর ৩৬০, উত্তর দিনাজপুর ২৭০, কোচবিহার ৩০০, আলিপুরদুয়ার ৩০০, নকশালবাড়ি ৩০০। এই স্কুলগুলিতে মোট শিশুর সংখ্যা ১০৬৭৭০। আর ভারত ও নেপাল মিলিয়ে ১০২৭০২ স্কুল, শিশুর মোট সংখ্যা ২৭৮৪৮০৬।

গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক: তা হলে চিন্তা করে দেখো, কী ধরনের ভোটিং বেস তৈরি হয়েছে।

সুগতদা বলছিলেন, দেশভাগের পর অচলাবস্থা তৈরি হলেও বিভক্ত বাংলায় চট করে একটা স্থিতি নিয়ে এসেছিল উদ্বাস্তুদের নিয়ে বাম রাজনীতি। আর গায়ত্রীদি বলছেন কী ভাবে বাম রাজনীতি লোকসংযোগের কাজটা করতে পারল না, ব্যর্থ হল মানুষের কাছে পৌঁছতে। আর তার থেকে আজকের এই সঙ্কট।

গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক: একেবারেই। একটা গল্প বলি। সে দিন এক বুড়ো লোক বলল, “দিদি, আজ আমার জুতো। জানেন তো, আমরা অচ্ছুত, বয়স যখন কম ছিল, পায়ে জুতো দেখলে বেত মারত।” বললাম, “বদলাল কে?” উত্তর দিল, “পার্টি।” এই দেখো। এই হল পার্টি। আর আজকে কিনা পার্টি মানে শুধু কে জিতল কে মরল! খালি মারামারির জন্যই পার্টি। এখন খবর: সিপিএম পার্টি মানুষকে বলছে, “ওই দলে যোগ দে, তবে আমাদের দল আবার দাঁড়াতে পারবে।” সারা জগতেই এখন বাম-ডান জোট, কারণ বামেদের আর কোনও দাঁড়াবার প্ল্যাটফর্ম নেই। এটা সত্যিই বিরাট পরিবর্তন।

আমার মতে, আমাদের দেশে বাম পার্টি ভয়ানক রকম ভাবে ‘শ্রেণি’তে আটকে গিয়েছিল, উঁচু শ্রেণির মধ্যে। শুধু তত্ত্বেই তারা বন্দি হয়ে থাকল। তত্ত্বগত ভাবে চমৎকার উত্তর দেয়, অথচ নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর প্রমাণ— পার্টি জানেই না কী করে নীচের মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। এত দিন বামপন্থায় থেকেও এরা চিন্তার দিক থেকে আসলে সামন্ততন্ত্রেই পড়ে আছে, উপরটা নীচের সঙ্গে কথা বলতে জানে না!

সুগত বসু: আমি কিন্তু গায়ত্রীদির থেকে শিখেছি কী ভাবে কথা বলতে হয়। ভেবেছি, কী করে যোগাযোগ স্থাপন করব বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী ও বৃহত্তর শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যে। আমার অনেক বক্তৃতাতে গায়ত্রীদির থেকে ধার করে অনেক সময় বলেছি, খেটে খাওয়া মানুষ কারা? আপনারাই আসল, কারণ আপনারা গতর খাটান। আর আমি কেবল মাথা খাটাই।

বিষয়টা খুব সহজ নয়। যখন সংসদীয় রাজনীতিতে ছিলাম তখন ভেবে নেওয়া কঠিন ছিল না যে, ওটাও আর এক রকম ক্লাসরুম। কিন্তু আসল ক্লাসরুমটা তো একেবারে অন্য— বারুইপুর, সোনারপুর, ভাঙড়ে কৃষকদের সভা, যেখানে বক্তৃতার জন্য, যোগাযোগের জন্য আমাকে ভাষা খুঁজতে হয়েছে। ওই ভাষাটার কিন্তু খুব অভাব, সেটার জন্য আমাদের ভীষণ চেষ্টা করতে হবে।

আর একটা কথা। বাংলা সংস্কৃতি ও বাংলা ঐতিহ্যের উপর বড় একটা আঘাত আসছে। বাংলার রাজনীতিতে কিন্তু একটা ‘বড়’ স্রোত ছিল, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, শরৎচন্দ্র বসু, সুভাষচন্দ্র বসু। অন্য দিকে একটা ‘ছোট’ সঙ্কীর্ণ ধারা ছিল, হিন্দু মহাসভার, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। দ্বিতীয় স্রোতটাই ১৯৪৭-এ আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনে। ২০২১-এ এঁদের জন্য আবারও আমাদের এত দিনের সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে, আর একটা সর্বনাশ হতেই পারে। যাঁরা বলছেন, “আরে আমরা কংগ্রেসও দেখেছি, সিপিএমও দেখেছি, তৃণমূলও দেখেছি, বিজেপিও নাহয় দেখব”, তাঁরা ঠিক উপলব্ধি করতে পারছেন না বিজেপি কত ভয়ঙ্কর।

প্রসঙ্গত, সর্বভারতীয় পরিপ্রেক্ষিতটাও মনে রাখতে হবে। কোনও দলই ‘পারফেক্ট’ নয়, অনেক ভুলভ্রান্তি, অনেক দুর্নীতি। কিন্তু তার মধ্যেও সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে এবং গোলকায়ন, বিশ্বায়নের পরিপ্রেক্ষিত মাথায় রেখে দেশের বাকি অংশের সঙ্গেও কতকগুলো যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।

গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক: খুব জরুরি কথা। এই যে তিনটি কৃষি বিল, এর মধ্যেই আছে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, অর্থাৎ গোলকায়নের কুফল। শুধু এ দেশে নয়, বিশ্বের সর্বত্র, এমনকি আফ্রিকাতেও এই ভাবেই ব্যাপারটা ঘটতে দেখেছি। কোনও জাতিরাষ্ট্র এখন একলা দাঁড়িয়ে নেই, যদিও সমানে জাতিরাষ্ট্র হিসেবেই দেখানো-বোঝানো হচ্ছে। কোভিড দেখিয়েছে, সম্পদের পুনর্বণ্টন লাগবে, ‘ইউনাইটেড সিটিজ়েন’ হতে হবে। খালি ‘বাংলা বাঁচাও’-এ পড়ে থাকলে তো হবে না। দুটোকে জুড়তে হবে।

কথা হল, কী করা যায়। মার্ক্সীয় বিপ্লবগুলি জনসম্মতির অভাবে কী ভাবে নষ্ট হয়ে গেল, সে তো আমরা দেখেছি। বক্তৃতা নয়— কাজটা করে করে এগোলে তবেই গণতান্ত্রিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে সাহায্য করা সম্ভব। সামাজিক ভাবে ন্যায়সম্মত পৃথিবীর দিকে যাওয়া সম্ভব।

সুগত বসু: আপনি যে বাংলার গ্রামীণ সমাজের কথা বলার আগেই বললেন কৃষক আন্দোলন হচ্ছে, দিল্লি ঘিরে ফেলেছে, ‘দিল্লি চলো’ ধ্বনি দিয়ে আন্দোলন হচ্ছে, সেটা থেকেই বোঝা যায় আমরা শুধু ‘বাংলা বাঁচাও’-এর কথা বলছি না। আসলে কৃষি-কাঠামো বিভিন্ন রাজ্যে কিছুটা আলাদা হলেও কতকগুলো যোগাযোগ স্থাপন খুবই সম্ভব। এমনকি গুজরাতেও কিন্তু গভীর সঙ্কট। কেবল মোদী-শাহের রাজত্বই তো নয়, তাদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রেখে চলে এমন আর একটি জুটির রূপ সেখানেই স্পষ্ট দেখেছি। গুজরাতে গিয়ে দেখে অবাক হয়ে গেলাম যে, সেই রাজ্যের প্রতিটি সমুদ্রতীর দু’টি বড় ব্যবসায়ী সংস্থার হাতে বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে, অম্বানী এবং আদানি।

বাংলায় রাজনীতি করতে গিয়ে সব সময় শুনতে হয় যে, আঞ্চলিক দলগুলো বড় দুর্নীতিপরায়ণ। অত্যন্ত সঙ্গত অভিযোগ, সন্দেহ নেই। কিন্তু অন্যান্য রাজ্যে, বিশেষ করে গুজরাতে এই দুর্নীতির বহর ও ধরনটা (‘স্কেল অব করাপশন, লিঙ্কড টু ক্রোনি ক্যাপিটালিজ়ম’) দেখলে স্তম্ভিত হতে হয়। গোটা শাসনতন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। অতিমারির মধ্যেও ছয়টি বিমানবন্দর আদানিরা দখল করেছে। জিভিকে-র মতো সংস্থা থেকে মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও তারা হস্তগত করেছে। অথচ এই গুজরাতেও কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর আশা আছে। কয়েকটা বড় সভায় বক্তৃতা ও আলোচনার সূত্রে বুঝলাম, সে রাজ্যের নাগরিক সমাজ অনেক দিক দিয়েই খুব সক্রিয়, ‘ভাইব্র্যান্ট’, প্রতিবাদী। অথচ, শুধু ভোট রাজনীতির দিক দিয়ে দেখলে, কংগ্রেস বা বিরোধী বলে আর কিছু নেই বলে সেখানে বিজেপির উল্টো দিকে কেউ দাঁড়াতেই পারছে না।

গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক: সংযুক্ত নাগরিকত্বের শিক্ষাটা খুব দরকারি, কোভিড তা আরও বেশি করে বুঝিয়ে দিয়েছে। নীচের মানুষের জন্য ‘বাংলা বাঁচাও’ বলে কাজ করার দরকার। কিন্তু অন্য রাজ্যগুলির সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, না হলে সংযুক্ত নাগরিকত্ব করা যাবে না। পুঁজিকে কী ভাবে লাগামের মধ্যে রাখা যায়, সীমাহীন ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত ভোগবৈভবের বাইরে আনা যায়, সেটাই আমাদের শিক্ষা হওয়া উচিত।

সুগত বসু: এখানেই আসে ব্যবহারিক রাজনীতির প্রশ্ন। আমেরিকাকে দেখে আজ আমরা একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছি। জো বাইডেনকে নিয়েও অনেকেই উৎসাহিত নন, কিন্তু ভাবতে পারছ, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আরও চার বছর রাষ্ট্রক্ষমতাকে নিয়ে ছেলেখেলা করতেন, কী হত? ঠিক তেমনই আমাদের দেশেও মোদী-শাহ রাজের পরিস্থিতি। এই যেমন, আজ মহারাষ্ট্রে বিজেপি নেই বলে আমরা অনেক কিছু জানতে পারছি, নির্বাচনের আগে সংবাদমাধ্যমকে কী ভাবে কব্জা করে রাখা হয়েছিল জানতে পারছি।

বড় বিপদটা কোত্থেকে আসছে সেটা মনে রাখতে হবে। বাংলাতেও। ঠিক এই মুহূর্তে, আমরা কোনও ‘আদর্শ বিকল্প’ মানুষের সামনে রাখতে পারব না, অন্তত কয়েক মাসের মধ্যে তো নয়। অথচ একটা খুব বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করতেই হবে। দেশে অন্তত চারটে খুব গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আসছে। সেই সব রাজ্যে যদি এমন সরকার গড়া যায়, যা কেন্দ্রীয় সরকারের চেয়ে আলাদা বা তার বিরোধী, তবে তার ভিত্তিতে ২০২৪-এ সারা ভারতবর্ষে সত্যি একটা বিকল্প দাঁড় করানো যেতে পারে। কথাটা মাথায় রাখা খুব দরকার।

গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক: আমাদের বিপদ কিন্তু অনেক বেশি। মোদী ট্রাম্পের মতো অত বোকা নন। যথেষ্ট রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে।

সুগত বসু: সে তো বটেই। সারা জীবন রাজনীতি করেছেন। ট্রাম্পের তো নিজের কিছু নীতি-আদর্শ ছিল না। মোদীরা একটা বিশেষ নীতিতে ‘কমিটেড’।

গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক: একটা আন্তর্জাতিক সমর্থনও আছে। আমাদের বিপদ অনেক বেশি। শুধু বাঙালি ভদ্রলোক হয়ে বসে না থেকে বাংলার পুরোটা নিয়ে ভাবা দরকার, দলিতদের কথাও। সে-সব চিন্তাভাবনা করছি কি?

ইউনিভার্সিটি প্রফেসর ইন দ্য হিউম্যানিটিজ়, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি; গার্ডিনার প্রফেসর অব হিস্ট্রি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

সূত্রধর: সেমন্তী ঘোষ

তথ্যসহায়ক: সূর্য পারেখ

জাদুকর আছে জানি

একটা অপার্থিব মুহুর্তের জন্য,
ঘুম থেকে উঠে পড়ি।
যা হয়নি,
যা হতে পারে,
যা কখনো হবে না বলে শিউরে উঠি,
এই অতলান্ত জীবনে যা কোনো দিন ঘটবে বলে নীরবতা আসে,
তার জন্য,
সেই তার জন্য,
থেমে যাই।

আমাদের অভ্যাস হয়ে যায়,
আমাদের বয়েস হয়ে যায়,
যা যা খুঁত ছিল,
এবরো খেবরো পথ ছিল,
সবই সুমসৃণ দেখায়।

যদিও জাদুকর আছে বলে জানি,
এই যে অতল অরণ্যানি,
তার গহনে জাদুকর অপার্থিব জানি
তবু ঘুম ভেঙে যায়,
টিপটিপিয়ে উঠে পড়ি,
যদি কখনো না হয়…
যদি জীবনের কোনো বিন্দুতে ঝাপসা না হতে পারি…

Portrait of a teacher: Dr. Swadhin Pattanayak

What makes a Stony Brook graduate return to India in the 70’s and work tirelessly for decades to spread mathematics in this country? The question intrigued me since I first met Dr. Pattanayak in the summer of 2011.

Dr. Pattanayak at once struck me as an extremely familiar figure. He imbues the traits of characters from a Satyajit Ray or Ritwik Ghatak movie. His ethos is firmly rooted in the fragmented renaissance that parts of India experienced in 19th and 20th centuries. His political ideas are acutely aware of Neheruvian socialism. His engagement with vernacular literature is reminiscent of the ‘Bhadrolok’ class, his enthusiasm about the struggles of sub-altern is as intense as the Naxals of the previous century.

In fact, his internal self, seemed completely singular in the ocean of students at IoMA. The students were mostly dissociated from the rooted struggle of working people that shaped our nation or the cultural connotations of a progressive left. Yet his enthusiasm about uplifting their life and their world-view seemed unabated.

This is the defining characteristic of the work of Dr. Pattanayak. In my view, he not only tried to improve the material well being and learning of his students. Instead, much like Tagore, he was interested to build rooted citizens of the world. He was very much aware of the difficulty in achieving this objective. He personally delivered a course on Cultural History of India in IoMA. That goes on show how deeply he cared about the cultural and political formation of a student’s mind. I remember that once I requested volumes of Tagore for our library at IoMA. Dr. Pattanayak ordered the complete works of Tagore within the following week. He seemed extremely happy with the request. In the evenings of IoMA, our discussions spanned over politics, literature, mathematics and more. The more I spoke with him, I felt at home. I felt like I am in Calcutta Coffee House or in the streets of Bengal where the downtrodden would fearlessly challenge the masters.

Several years later, when I completed my Ph.D. in the United States, I acutely remembered the courage of my teacher. I remembered his mission for life, his deep concern about rooted development of citizens of the future. I returned to my homeland with renewed energy. My teacher, Professor Pattanayak, completed the circle.

প্রস্থান

যে কোনো সময় তুমি চলে যেতে পারো,
কিন্তু,
যে কোনো সময় তুমি চলে যেতে চাইতে পারো না।

সেসব কথা লিখিনা কারণ গায়ক মৃত্যু চেয়েছে,
সেসব আগাছাজীবন লেখা যায় না আমৃত্যু,
তবু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলছি,
যে কোনো সময় তুমি গটগট করে বেড়িয়ে যাও,
‘দুরছাই’ বলে বেড়িয়ে যাও,
ধ্বংস গেয়ে উঠে চলে যাও মহাপ্রস্থান।

কিন্তু ওই,
বেড়িয়ে যেতে চাইতে পারবে না।

অকাল বোধন

দেখতে দেখতে দশ বছর কেটে গেছে। এবার চতুর্থীর দিন অফিসে প্রাক-পুজো ফিস্ট ছিলো। কাননদি যথারীতি রসিয়ে রান্না করেছিলেন। কাননদি আমাদের যৌথ কিচেনের দায়িত্ত্বে আছেন। তার রান্নার হাত যতটা ভালো তত ভাল অঙ্ক কষতে পারলে আমি ফিল্ড্স পেতাম!

এই টিমটা একটা পরিবারের মত হয়ে গেছে। একজনের শরীর খারাপ হলে আরেকজন নিজে থেকে ওষুধ কিনে আনে। একজন বাইরে গেলে সে বাকিদের জিজ্ঞেস করে ‘কিছু আনতে হবে?’ মাঝে মাঝে ছোটখাট ট্রিপের পরিকল্পনা হয়। অফিসে আপাতত চা, কফি ফ্রি। সকালে, দুপুরে, বিকেলে খাওয়ার ব্যবস্থা সরকারী দামে।

এরা সবই বাংলার তরুণ তরুণী। কামাই নেই, দেরীতে ঢোকা নেই, বাজে কথায় সময় নষ্ট নেই, সারা সপ্তাহ ধরে এরা সকলেই আনন্দ করে পরিশ্রম করে। সবচেয়ে বড় কথা এরা সকলেই ভাবে কি করে তাদের কাজটা আরো সুন্দর হতে পারে। সফট্ওয়্যার ডেভেলেপমেন্ট টিমের লোকজন মাথা খাটায় কি করে আরো ভালো algorithm-এ প্রোগ্রাম করা যায়। মার্কেটিং টিমের লোকজন চিন্তা করে যে আরো সৃজনশীল ভাবে কি করে উপভোক্তার কাছে পৌঁছতে পারি। শিক্ষক চিন্তা করেন আরো ভালো করে কি পড়ানো যেতে পারে।

যারা বলেন বাঙালি কুঁড়ে, সময়ের ঠিক নেই, ফাঁকিবাজ, তাদের কারোর কথা তাই আর বিশ্বাস করি না। উপযুক্ত কাজের পরিবেশ আর ভালো কাজ করার সুযোগ থাকলে, বাঙালির সাথে কাজ করা বরং অত্যন্ত আনন্দের। কাজের ফাঁকে আলোচনা – আড্ডা অনেক বেশী মজার। তাতে রবীন্দ্রনাথ থেকে সুমন প্রায়ই উঁকি মারেন। সামান্য চায়ের ব্রেকও তাই আনন্দের।

এই অতিমারীর যুগে সেই আনন্দের অকাল বোধন হোক।

আর উপায় নেই

যা স্পষ্ট করে বলা যায় না,

শুধু সেটুকুর জন্য,

আমরা নিথর হয়ে শুয়ে থাকতে পারি হাজার বছর।

যা সুবিন্যস্ত নয়,

তুখোর বা বোধবদ্ধ নয়,

যা শব্দ করে না, শব্দে বাঁচে না

তার জন্য আমরা তীব্র হয়ে থাকতে পারি হাজার মুহুর্ত।

সেই গুহার বাইরে আমি যাব,

সেই তপোবন পেরিয়ে, স্কুল বাজার উজিয়ে,

সমুদ্র ভেদ করে,

মনের দীর্ণ শালপাতা ছিন্ন করে,

আমি যাব।

আমি দেখব। আমি শুনব। আমি রোমাঞ্চিত হব।

আর তো উপায় দেখিনা।